1. skbanglatv@skbanglatv.com : Skbangla Tv : Skbangla Tv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
ওএমএস ডিলার পয়েন্টে সময় লঙ্ঘনের নেপথ্যে কী? - Skbanglatv24.com
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

ওএমএস ডিলার পয়েন্টে সময় লঙ্ঘনের নেপথ্যে কী?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭২ Time View
প্রতিনিধিঃ জুবায়ের বয়ান
সকাল ৯টা–বিকাল ৫টার নিয়ম কাগজে, বাস্তবে ১১টায় শেষ—তদারকির ব্যর্থতায় প্রশ্নবিদ্ধ খাদ্য অধিদপ্তর
সরকার ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত ওএমএস (Open Market Sale) ডিলার পয়েন্ট প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথা। উদ্দেশ্য একটাই—স্বল্প আয়ের মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের অধিকাংশ ওএমএস ডিলার পয়েন্টে সকাল ১১টা কিংবা ১২টার মধ্যেই বিক্রি শেষ দেখিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এই সময় লঙ্ঘন শুধু একটি প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; এর পেছনে রয়েছে ডিলার, তদারকি কর্মকর্তা এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের নীরবতার একটি সমন্বিত চিত্র—যা ওএমএস কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নিয়ম কী বলছে?
খাদ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী—
ওএমএস ডিলার পয়েন্ট সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে
নির্ধারিত বরাদ্দ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি চলবে
তদারকি কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন
অনিয়ম প্রমাণিত হলে ডিলারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই নিয়মগুলো বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না।
সরেজমিন চিত্র: লাইনে মানুষ, কিন্তু পণ্য নেই
অনুসন্ধান টিম একাধিক ওএমএস ডিলার পয়েন্টে গিয়ে দেখতে পায়, সকাল ৮টা থেকেই সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়ান। রিকশাচালক, দিনমজুর, গৃহকর্মী ও নিম্নআয়ের নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। কিন্তু সকাল গড়িয়ে ১১টা হলেই ভেসে আসে একই ঘোষণা—
“আজকের মাল শেষ।”
একজন দিনমজুর বলেন,
“আমরা সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু দেখছি, যারা আগে থেকে পরিচিত, তারাই মাল নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ভাগ্যে কিছু জোটে না।”
একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট খোলা থাকলেও প্রকৃত বিক্রি শুরু হয় দেরিতে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ দেখানো হয়।
বরাদ্দ কম নাকি বরাদ্দের অপব্যবহার?
ডিলারদের বক্তব্য—বরাদ্দ কম, তাই দ্রুত শেষ হয়ে যায়। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দের পরিমাণের তুলনায় বিক্রির সময় ও ক্রেতার সংখ্যা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
খাদ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, একটি পয়েন্টে যে পরিমাণ চাল বা আটা দেওয়ার কথা, তা ন্যূনতম কয়েক ঘণ্টায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই সব শেষ দেখানো হচ্ছে।
এতে প্রশ্ন উঠছে—
সত্যিই কি সব পণ্য বিক্রি হচ্ছে?
নাকি একটি অংশ বিক্রির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে?
ডিলার–কর্মচারী যোগসাজশের অভিযোগ
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনেক ওএমএস পয়েন্টে ডিলার নিজে অনুপস্থিত থাকেন। তার বদলে কর্মচারীরাই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অভিযোগ রয়েছে—
কর্মচারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আগে পণ্য দেওয়া হয়
লাইনে থাকা সাধারণ মানুষ শেষ দিকে কিছুই পান না
পরিচিত ব্যবসায়ী বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা হয়
স্থানীয় পর্যায়ে গোপনে কথা বলা কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ওএমএসের চাল ও আটা কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামে পুনরায় বিক্রি হচ্ছে।
তদারকি কোথায়? বড় প্রশ্ন DC Food ও RC Food-এর ভূমিকা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে।
নিয়ম অনুযায়ী—
তদারকি কর্মকর্তার নিয়মিত পরিদর্শন
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (DC Food)-এর সরাসরি নজরদারি
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (RC Food)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান
কিন্তু বাস্তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে—
পরিদর্শন নিয়মিত নয়
সময় লঙ্ঘন হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না
অভিযোগ জানালেও কার্যকর প্রতিকার মেলে না
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি জানলেও ‘তোয়াক্কা করেন না’। এতে ডিলাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
নীরবতার সংস্কৃতি: কেন ব্যবস্থা নেই?
খাদ্য অধিদপ্তরের বিধিমালায় শাস্তির স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ খুবই সীমিত। অনুসন্ধানে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো লাইসেন্স বাতিল বা কঠোর শাস্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীরবতা অনিয়মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। একবার নিয়ম ভাঙার পর কোনো শাস্তি না হলে সেটি অন্য ডিলারদের জন্যও ‘দৃষ্টান্ত’ হয়ে ওঠে।
ক্ষতিগ্রস্ত কারা?
এই অনিয়মের সরাসরি শিকার—
নিম্নআয়ের পরিবার
দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ
বয়স্ক ও অসহায় জনগোষ্ঠী
যাদের জন্য ওএমএস চালু, তারাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ওপর মানুষের আস্থা কমছে।
বিশেষজ্ঞ মত
খাদ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে,
“ওএমএসের মতো কর্মসূচি সফল করতে হলে সময়, পরিমাণ ও স্বচ্ছতা—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। তদারকির ঘাটতি থাকলে অনিয়ম হবেই।”
করণীয় কী—অনুসন্ধানের সুপারিশ
অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের সুপারিশ—
ডিজিটাল টাইম লগ: প্রতিটি পয়েন্টে খোলা ও বন্ধের সময় অনলাইনে রেকর্ড
রিয়েল-টাইম মনিটরিং: বিক্রিত পণ্যের লাইভ হিসাব
হটলাইন কার্যকর করা: অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: লাইসেন্স বাতিল ও আইনগত পদক্ষেপ
DC Food ও RC Food-এর জবাবদিহি নিশ্চিত করা
উপসংহার
ওএমএস কর্মসূচি গরিব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা। কিন্তু সময় লঙ্ঘন, ডিলার–কর্মচারী যোগসাজশ এবং তদারকির ব্যর্থতায় এই উদ্যোগ আজ প্রশ্নের মুখে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম যদি বাস্তবে কার্যকর না হয়, তবে কাগজে-কলমে এই কর্মসূচির কোনো অর্থ থাকে না।
অনুসন্ধান বলছে—সমস্যা নিয়মে নয়, সমস্যাটি প্রয়োগে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অনিয়ম বন্ধে আদৌ কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2022

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি