1. skbanglatv@skbanglatv.com : Skbangla Tv : Skbangla Tv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য গুদামে বিপুল পরিমাণ ধান-চাল উধাও: দুদকের অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে - Skbanglatv24.com
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য গুদামে বিপুল পরিমাণ ধান-চাল উধাও: দুদকের অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮৮ Time View
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক স্বাধীন সংবাদ কুড়িগ্রাম,
১২ জানুয়ারি ২০২৬:
কুড়িগ্রাম জেলার সরকারি খাদ্য গুদামে মজুত ধান ও চালের হিসাবে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর একটি টিমের অভিযানে দেখা গেছে, জেলা খাদ্য গুদাম থেকে ৫২১ মেট্রিক টন ধান এবং ৩৫ মেট্রিক টন চাল (কিছু সূত্রে ৪১.৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত উল্লেখ) হদিস মিলছে না। এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য উধাও হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, এসব ধান-চাল অবৈধভাবে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম শহরের নতুন রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থিত জেলা খাদ্য গুদামের ৮টি গোডাউনে দিনব্যাপী অভিযান চালায় দুদকের একটি বিশেষ টিম। অভিযানকালে গুদামের রেকর্ড বই এবং বাস্তব মজুতের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোট ৭১১ মেট্রিক টন ধানের রেকর্ড থাকার কথা থাকলেও শারীরিকভাবে গণনায় পাওয়া গেছে অনেক কম। একইভাবে চালের ক্ষেত্রেও ১১৭৬ বস্তা (প্রায় ৩৫-৪১ মেট্রিক টন) কম পাওয়া গেছে। এছাড়া গুদামে মজুত কিছু চালের মান নিম্নমানের এবং পচনশীল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পর দুদক টিম গুদামের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অভিযান শেষে গুদামগুলো সিলগালা করে দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অনিয়ম চলে আসছিল। বিশেষ করে খাদ্য বিতরণ, সংরক্ষণ এবং রেকর্ড সংরক্ষণে চরম অবহেলা ও দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
কুড়িগ্রাম একটি দারিদ্র্যপ্রবণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ জেলা। এখানে প্রতি বছর বন্যা, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হাজার হাজার মানুষ খাদ্য সহায়তার উপর নির্ভর করে। সরকারের ভিজিএফ, ভিজিডি, ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস)সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ জেলায় প্রচুর পরিমাণ ধান ও চাল বিতরণ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে জেলা খাদ্য গুদাম থেকে এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য উধাও হওয়া স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, যখন দরিদ্র মানুষের ঘরে খাবারের জোগান ঠিকমতো পৌঁছায় না, তখন এ ধরনের দুর্নীতি অত্যন্ত লজ্জাজনক। একজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা মাঠে ফসল ফলাই, সরকার সংগ্রহ করে গুদামে রাখে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই খাদ্য গরিবের কাছে পৌঁছায় না। এখন শুনছি শত শত টন ধান-চাল গায়েব! এটা কোনো ছোটখাটো চুরি নয়, এটা জাতীয় সম্পদের সঙ্গে প্রতারণা।”
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, কিছু কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকতে পারে, তবে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন।
দুদকের এই অভিযানকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে খাদ্য বিভাগে দুর্নীতি কমবে এবং সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছাবে। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, শুধু গুদাম সিল করলেই হবে না—দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনা নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোও এটিকে সরকারের খাদ্য ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরছে। দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই জানা যাবে পুরো ঘটনার আসল রহস্য। ততদিন পর্যন্ত কুড়িগ্রামের খাদ্য গুদামের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা জনমনে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে রেখেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2022

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি