প্রতিনিধিঃ খোরশেদ আলম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নে ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাবলিক টয়লেটের শুভ উদ্বোধন হলো। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে শিমুলকান্দি গরু বাজারের পাশে নির্মিত এই পাবলিক টয়লেট উদ্বোধন করেন ভৈরব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—
শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম আল আমিন, ভৈরব উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সহকারী অফিসার মাসুদ রেজা, ভৈরব উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরিফ মোহাম্মদ ফরহাদ, ইউনিয়নের ইউপি সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন বলেন—
“জনস্বাস্থ্য শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি মানুষের মর্যাদা রক্ষার উপায়। শিমুলকান্দির মানুষের বহুদিনের চাহিদা ছিল একটি মানসম্মত পাবলিক টয়লেট। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের আওতায় এই স্থাপনাটি নির্মিত হওয়ায় বাজারের হাজারো মানুষের সুবিধা হবে। টেকসই উন্নয়ন মানে শুধু বড় বড় প্রকল্প নয়—একটি নিরাপদ টয়লেটও মানুষের জীবনমান বদলে দিতে পারে। আজকের এই উদ্যোগ ভৈরবের উন্নয়নের একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।”
তিনি আরও বলেন—
“যে সমাজ নিজের পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্যের দিকে গুরুত্ব দেয়, সেই সমাজ সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যায়। শিমুলকান্দি একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম আল আমিন
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশংসা করে তিনি বলেন—
“উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন স্যার শুধু একজন কর্মকর্তা নন—তিনি মানুষকে ভালোবাসেন, মানুষের সমস্যাকে নিজের সমস্যার মতো দেখেন। তাঁর তদারকি না থাকলে এই প্রকল্প এত দ্রুত বাস্তবে রূপ পেত না। আজকের এই টয়লেট শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি আমাদের এলাকার উন্নয়ন ও সেবায় তাঁর অশেষ আন্তরিকতার প্রতীক।”
তিনি আরও যোগ করেন—
“ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে এই উদ্যোগ আশীর্বাদ হয়ে এল। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করব।”
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসার মাসুদ রেজার বলেন,
“আমরা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে এই পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছি। এখানে পানি, সেফটি ট্যাংক, বায়ুচলাচলসহ আধুনিক সব সুবিধা রাখা হয়েছে। মানুষ যেন স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই ব্যবহার করতে পারে—সেই লক্ষ্যেই কাজ করেছি। আমরা চাই প্রত্যেক ইউনিয়নে এ ধরনের মানসম্পন্ন ব্যবস্থা থাকুক।”
ভৈরব উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আরিফ মোহাম্মদ ফরহাদের বলেন,
“উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট নয়, মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করাও উন্নয়ন। শিমুলকান্দিতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ বাজারে আসে—আজ তাদের জন্য নিরাপদ টয়লেটের সুযোগ সৃষ্টি হলো। এটি মানবিক উন্নয়নের উদাহরণ। প্রশাসনের এই কাজ আসলে জনগণের কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতার পরিচায়ক।”
এলাকার স্থানীয় নারী রহিমা বেগম বলেন,
“আমরা মেয়েরা বাজারে এলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তাম। আজ যেন বুক থেকে একটা ভার নেমে গেল। পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ টয়লেট পাওয়া আমাদের জন্য অনেক বড় সুখবর। এটা আমাদের সম্মানের জায়গা।”
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,
“গরু বাজারে প্রতিদিন ভিড় থাকে। এতদিন যত্রতত্র যেতে হতো। আজকের এই ব্যবস্থা আমাদের বাজারকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন আর স্বাস্থ্যসম্মত করবে। সত্যিই এটি মানুষের ব্যবহার উপযোগী একটি বড় উদ্যোগ।
শিমুলকান্দির এই পাবলিক টয়লেট যেন—
“নিঃশব্দে মানুষের সেবায় দাঁড়িয়ে থাকা এক পাহারাদার;
যে সমাজের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা আর মানবিক মর্যাদাকে রক্ষা করে।
যেমন নদীর তীরে একটি ঘাট মানুষের পিপাসা মেটায়—
ঠিক তেমনি একটি নিরাপদ টয়লেট মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অস্বস্তি দূর করে।”
২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পাবলিক টয়লেট শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। উদ্যোগের নেতৃত্ব থেকে নির্মাণ কাজের বাস্তবায়ন—সবকিছুই হয়েছে সমন্বিত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে।
এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; জনগণের স্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্ববোধের বাস্তব উদাহরণ।
Leave a Reply