প্রতিনিধিঃ মাখন মিয়া
কেউ কেউ বলতে পারেন হঠাৎ পুলিশ নিয়ে এতো করে কেন গুনগান গাইছি! আমি একজন সাংবাদিক কর্মী হিসেবে সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করি। পুলিশ আমাদের ভাই ভাই। আমরা কলম যোদ্ধা আর পুলিশ আইন ও অস্ত্র যোদ্ধা। আমরা সবাই দেশের সৈনিক।
তাড়াইল থানার বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া আমি খুব একটা যাই না। প্রয়োজন হয় না। কোনো নিউজ থাকলে ডিউটি অফিসার এর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করি অথবা সহকর্মীদের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করি।
গত তিন চার মাসে থানায় কয়েকবার যাই এবং পুলিশ সাংবাদিক এর বিভিন্ন যৌত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করি। তাতে অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে হয় ওসি সাব্বির রহমান একজন বিচক্ষণ, মেধাবী এবং ডায়নামিক পুলিশ অফিসার। আমাদের তাড়াইল থানায় তিনি আসার পর রাজনৈতিক, সামাজিক অস্থিরতা অনেকটা কমেছে। তিনি সর্ব মহলের সাথে চলার একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। পুলিশ এর ভাবমূর্তি আগের জায়গায় নেয়ার ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। তিনি তাড়াইল থানায় সকল শ্রেনীর মানুষের জন্য সমান, নিরপেক্ষ এবং সঠিক আইনসেবা চালু করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে আমার কাছে মনে হলো। যদিও শতভাগ সাফলতা কোনো কাজেই আসেনা কিন্তু ওসি সাব্বির রহমান এর মুভমেন্টে আমরা অত্যান্ত খুশি।
তাড়াইলে ইদানিং চুরি, ছিনছাই, জুয়া, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেসব সভা সমাবেশ হচ্ছে এসব অপরাধ কমবেশি আগে থেকেই ছিল। কিছু প্রভাবশালী নেতা, মাদবর, চেয়ারম্যান, মেম্বারের পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বজনপ্রীতির কারণে পুলিশ অনেক কাজ করতে গিয়েও বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এসব নেতা, মাদবর, দালালরাই অপরাধীর পক্ষে কাজ করে বিধায় এলাকা থেকে অপরাধ কমানো যায় না। মাঝে মাঝে পুলিশ ব্যর্থ হয়।
ওইদিন ওসি সাব্বির রহমান তাড়াইল মাদরাসা মাঠের সভায় এই কথাটি প্রকাশ্যে এনেছেন এবং বলেছেন, আমরা অপরাধী ধরলে আপনারাই সুপারিশ করা শুরু করেন। আপনারা কোনো দিন কি থানায় অভিযোগ করেছেন? কে চোর, কে ছিনতাইকারী, কে মাদক ব্যবসায়ী? কেন অভিযোগ করেন না? বলতে পারেন না? আবার মাইকে এসে বক্তব্য দেন। আপনারা সুপারিশ কইরেন না। দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে। আর সমাজের মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, পুলিশকে সহযোগিতা করে তাহলে সব অপরাধ কমে আসবে। সাহসি কথা বলেছেন তিনি। ওনি তো ঠিকই বলেছেন। এজন্য আমাদের আরও সচেতন হতে হবে আর ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাড়াইল থানার পুলিশ বর্তমান কার্যক্রম অত্যান্ত সুন্দর এবং দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করছে। আরও দুজনের কথা না বললেই নয়। ওসি তদন্ত শ্যামল মিয়া এবং সাব-ইন্সপেক্টর লুৎফর সাহেব খুবই দায়িত্বশীল পুলিশ। ওসি সাব্বির রহমান সহ তাদের তিনজনের মতো অফিসার যে থানায় থাকবে আমি বিশ্বাস করি জনগন পুলিশের দ্বারা ১০০% সঠিক সেবা পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ইদানীং চুরির ঘটনা বাড়লেও তাড়াইল থানার পুলিশ প্রচুর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ঘরে ঘরে পাহাড়া দেওয়া তো সম্ভব নয়। এজন্য আমাদেরও সচেতন হতে হবে। এলাকা অপরাধ মুক্ত করা শুধু পুলিশের একার কাজ নয়। জনগনও এর অংশীদার। কথায় আছে জনতাই পুলিশ, পুলিশই জনতা।
ওসি সাব্বির রহমান, ওসি তদন্ত শ্যামল মিয়া এবং সাব-ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান সাহেব বিচক্ষণ পুলিশ অফিসার হিসেবে তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। তাই আমি নিজের বিবেক থেকে লিখতে বাধ্য হলাম। কেউ আমাকে বলে দেয়নি। ভালো কাজে প্রশংসা করাও আমাদের দায়িত্বে পড়ে। গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ৩১ তারিখ অক্টোবর পর্যন্ত আমার জানামতে ২০ থেকে ২৫জন অপরাধী ও ওয়ারেন্ট এর আসামী আইনের কাছে সোপর্দ করেছে তাড়াইল থানার পুলিশ। বর্তমানে মাদক, চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। এই অভিযান চলমান থাকবে বলে জানতে পেরেছি। তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ সাব্বির রহমান, ওসি তদন্ত শ্যামল মিয়া ও লুৎফর রহমান সাহেব এই অভিযানে সফল হবে আমি আশাবাদী।
তাঁদেরকে আমরা সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ। তাড়াইল থানার সকল পুলিশ ভাইদের প্রতি আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো। জনবান্ধব থানা হিসেবে স্বীকৃতি পাক আমাদের তাড়াইল থানা।
Leave a Reply