1. skbanglatv@skbanglatv.com : Skbangla Tv : Skbangla Tv
  2. zakirhosan68@gmail.com : zakirbd :
ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর: ইতিহাসের নতুন ধারা নির্ধারণের দিন - Skbanglatv24.com
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর: ইতিহাসের নতুন ধারা নির্ধারণের দিন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪৯ Time View

প্রতিনিধিঃ মাখন মিয়া

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ এক যুগান্তকারী দিন—যেদিন বিপ্লব ও সংহতির মাধ্যমে জাতি একটি নতুন ধারায় প্রবেশ করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ষড়যন্ত্র ও বিভক্তির পর সেদিন সিপাহী-জনতা একত্রে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষী, এটি ছিল কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রচিন্তা, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতীয় ঐক্যের এক নতুন সূচনা।
৭ নভেম্বরের পূর্বে দেশ ছিল রাজনৈতিক দিক থেকে গভীর অস্থিরতায় নিমজ্জিত। ১৯৭৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়টিতে রাষ্ট্রযন্ত্র ছিল দিকহারা, প্রশাসন ছিল পক্ষপাতদুষ্ট, এবং সমাজে বিরাজ করছিল ভয় ও বিভাজনের সংস্কৃতি। একদলীয় শাসনব্যবস্থার দমবন্ধ পরিস্থিতি, সংবাদপত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের বাকস্বাধীনতা হরণের ফলে জাতি ছিল নিঃস্ব। এই প্রেক্ষাপটে সিপাহী-জনতার মিলিত আন্দোলন জাতিকে মুক্তি দেয়—বিপ্লবের মধ্য দিয়ে নতুন জাতীয় ঐক্যের বীজ রোপিত হয়।
এই বিপ্লবেরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক জিয়াউর রহমান জাতিকে নতুন রাজনৈতিক দর্শনের পথে পরিচালিত করেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্ত সংবাদপত্র ও জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ। রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রেও আসে মৌলিক পরিবর্তন—সংকীর্ণ দলীয় জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, যা ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় ঐক্যের দর্শন দেয়।
৭ নভেম্বর পরবর্তী বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এক নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করে। রুশ-ভারতকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বাংলাদেশ তখন সমমর্যাদার ভিত্তিতে যুক্ত হয় বৈশ্বিক পরিসরে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার ধারণাও এই সময়ের উদার ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ৭ নভেম্বরের বিপ্লব নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। সমাজতান্ত্রিক অপচয় ও রাষ্ট্রনির্ভর অকার্যকর অর্থনীতি থেকে সরে এসে ব্যক্তি উদ্যোগ, বাজারমুখিতা ও উৎপাদনশীলতার পথে বাংলাদেশ অগ্রসর হয়। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ তকমা ধীরে ধীরে বদলে যায় সম্ভাবনার প্রতীকে।
সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল সেনা ও জনতার ঐক্য—জাতীয় স্বার্থে নাগরিক সমাজ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠা। এ ঐক্যের মাধ্যমে জাতি আবারও আত্মপরিচয়ের সন্ধান পায় এবং গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসে।
অতএব, ৭ই নভেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়—এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা-পরবর্তী সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের দিন। যখনই জাতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, ৭ নভেম্বরের চেতনা তখনই হবে ঐক্য, সংহতি ও আত্মমর্যাদার অনন্ত প্রেরণা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2022

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি